কুমিল্লার মুরােদনগরে পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা না মেনেই মোহনা ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে ইট। আর এই ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে কৃষিজমি ও বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ আবাসিক এলাকার পাশে। ইতিমধ্যেই এই ইটভাটায় পুরোদমে চলছে নতুন ইট তৈরি ও পোড়ানোর কার্যক্রম। এছাড়া ইটভাটা করার জন্য যেসব নির্দেশনা ও প্রক্রিয়া মানতে হয় তার কোনটিই মানছে না উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে মোচাগড়া এলাকায় স্থাপন করা মোহনা ব্রিকসের মালিকরা। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই এসব ইটভাটা চালু করার কারনে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাছাড়া এ দুটি ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর তথা স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা না নিয়ে রয়েছেন রহস্যজনক ভূমিকায়। জানা যায়, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ২-৩ ফসলি আবাদি কৃষিজমি, আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট বাজার থেকে কমপক্ষে এক কিলোমিটার এবং গ্রামীণ বা ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তা থেকে আধা কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। অথচ মুরাদনগর উপজেলায় এ ধরনের নিয়ম ভঙ্গ করেই স্থাপন করা হয়েছে ইটভাটা। অদৃশ্য অনুমোদনেই অবৈধ ইটভাটায় বছরের পর বছর ইট তৈরি ও পোড়ানোর কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও রহস্যজনক কারনে ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তাছারা ইটভাটা আইনের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মোহনা ব্রিকস ইট পোড়ানো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিন ফসলি জমি ও মোচাগড়া মাধ্যমিক স্কুলের দক্ষিণ পাশে জনবহুল এলাকায় গড়ে উঠেছে মোহনা ব্রিকস।
ইটভাটা থেকে ৫শ’ মিটার দূরত্বের মধ্যেই রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার এবং তিনফসলি জমি। এছাড়া মোহান ব্রিকসের পাশেই কৃষিজমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে ইট তৈরির জন্য। মোহনা ব্রিকসের সত্ত্বাধিকারী কাজী আবুল খায়ের বলেন, মোহনা ব্রিকসের সকল কাগজপত্র রয়েছে তবে এগুলো নবায়ন করা হয়নি। শিগ্রই কাগজপত্র নবায়ন করা হবে। মুরাদনগর উপজেলা ইটভাটা সমিতির সভাপতি কাইয়ুম ভূইয়া বলেন, মুরাদনগর উপজেলার কিছু সংখ্যক ইটভাটার লাইসেন্স নেই। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেলেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স পাওয়া যাবে। এ ব্যাপারে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন ভূইয়া জনি বলেন,অবৈধ ব্রিকস ফিল্ড সংক্রান্ত অচিরেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লা অঞ্চলেরর উপ-পরিচালক শওকত আরা কলি বলেন, মোহনা ব্রিকস সহ এ উপজেলার কয়েকটি ব্রিকসের কাগজপত্র নবায়ন করা নেই। যে সকল ব্রিকসের কাগজপত্র নবায়ন নেই সে ব্রিকসের বিরুদ্ধে অচিরেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
মুরাদনগরে পরিবেশ অধিদপ্তরের নীতিমালা না মেনে পোড়ানো হচ্ছে ইট
