২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
সংবাদ পাঠান
© 2026 জাগো বুলেটিন
শিরোনাম

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে প্রেমিক দুই বিয়ে করে বিপদে, এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

জাগো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২২

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক প্রেমিক দুই বিয়ে করে এখন বিপদে। প্রেমিকের দাবি তিনি আইগত ব্যবস্থা নিবেন। তার দুই বিবাহিত স্ত্রী এখনো বিদ্যমান রয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জ প্রধানাবাদ মধুরামপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রেমিক নবদ্বীপ রায়ের বাড়ি এ এলাকায়। পূর্বে বিয়ে করা স্ত্রী বিউটি রানীর বাড়িও একই এলাকায়। পরে বিয়ে করা প্রেমিকা সীমা রায়ের বাড়ি দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায়৷
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জ মধুরামপাড়া এলাকার নবদ্বীপ রায় ও বিউটি রানীর বিয়ের পর অবশেষে সীমা রায় নামের আরেক মেয়ের সাথে বিয়ে দেবার অভিযোগ উঠেছে তিন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে।

প্রেমিকা সীমা রায় বলেন, আমি যখন দেবীগঞ্জ অলদিনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি ম্যাসে থেকে তখন নবদ্বীপ রায় মাষ্টার্সে পড়াশোনা করতো। নবদ্বীপ থাকতো আমি যে ম্যাসে থাকতাম তার পাশের ম্যাসে। তখন থেকে দুই জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কে রুপ নেয়। বিয়ের প্রলোভনে অসংখ্য বার শারিরীক সম্পর্কও হয়েছে৷ কিন্তু কিছুতিন আগে আমাকে না জানিয়ে গোপনে বাড়ির পাশে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিয়ে ঠিক করে৷ খবর পেয়ে আমি নবদ্বীপের বাড়িতে বির দাবি নিয়ে ২৪ দিন ধরে অবস্থান নেই। বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সাথে বাসায় ফিরে আসি।

সীমার পরিবার জানায়, সীমা যখন বিয়ের দাবি নিয়ে নবদ্বীপের বাড়িতে অবস্থান নেয় তখন নবদ্বীপ রায়ের পরিবার আর বিউটি রানীর গোপনে পরামর্শ করে নবদ্বীপকে আর বিউটি রানীকে অন্যত্র জায়গায় একত্রিত করে বিয়ে দিয়ে দেন৷ এদিকে সীমা রায় তখনও নবদ্বীপ রায়ের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছিল। সীমা রায় যাতে নবদ্বীপ রায়কে বিয়ে করতে না পারে এজন্য তারা গোপনে এ নাটক করে।

সীমা রায়ের ভাই উজ্জ্বল রায়, মামা ধরনী রায়, দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইউ পি সদস্য ভরত চন্দ্রের সাথে সীমা রায় নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে নবদ্বীপ রায় ও সীমা রায়ের বিয়ে দেয়া হয়।

নবদ্বীপ রায়ের পরিবার জানায়, নবদ্বীপ রায় একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে কর্মরত আছে। তিনি কোম্পানীর বার্ষিক কনফারেন্সে যোগদানের উদ্দেশ্য স্ত্রী বিউটি রানীকে সাথে নিয়ে যান কক্সবাজার। পরদিন ১৩ ডিসেম্বর দুপুরে কনফারেন্স শেষ করে রাতে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা ছিল নবদ্বীপ দম্পতির। তবে একই দিন সন্ধ্যায় ওই অভিযুক্তরা নবদ্বীপ রায়ের কক্সবাজারে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সন্ধ্যায় তারা কক্সবাজারে গিয়ে উপস্থিত হন। পরে নবদ্বীপ ও তার বিবাহিত স্ত্রী বিউটি রানীর মোবাইল ফোন নিয়ে সুইচ অফ করে দেন।
১৪ ডিসেম্বর দুপুরে তাদেরকে মাইক্রোবাস যোগে এনে নীলফামারীর ডোমার এশিয়ান হাইওয়ে রেল ক্রসিং এলাকায় এনে নবদ্বীপ রায় ও বিউটি রানী কে আলাদা করে রাখেন সীমা রায়ের স্বজনরা।
১৫ ডিসেম্বর নবদ্বীপ রায়কে দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়া এলাকার সীমার বাড়িতে এনে এ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে তাদেরকে
বিয়ে দেয়া হয়।

নবদ্বীপ রায়ের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খবর পেয়ে দেবীগঞ্জ থানার পুলিশ নবদ্বীপ রায়কে সীমা রায়ের বাড়ি হতে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে বিউটি রানীর পরিবার বিউটি রানীকে উদ্ধারের জন্য দেবীগঞ্জ থানায় জিডি করার পর বিউটি রানীকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।
তারপর থেকে বিউটি রানী এখন নবদ্বীপ রায়ের বাড়িতে অপেক্ষা করছেন স্বামীর জন্য। অন্যদিকে অসুস্থ্য স্বামীর সেবা করার জন্য আরেক স্ত্রী সীমা রায় নবদ্বীপ রায়ের সাথে অবস্থান করছেন দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিতু আকতার বলেন, নবদ্বীপ রায়কে বার বার ডাকার পরেও যখন সে আসেনি তখন মেম্বারদের সাথে নিয়ে তিনি নবদ্বীপ রায়কে আনতে গিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, নবদ্বীপ রায় ও সীমা রায়ের মধ্যে চলমান বিষয়টি মিমাংসা করতে চেয়েছিলেন।

দেবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রন্জু আহম্মেদ জানান, খবর পেয়ে নবদ্বীপ রায়কে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি রায় পুলিশ কোন পক্ষ অভিযোগ করেনি৷ অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

ফটো কার্ড প্রিভিউ
শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২২

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে প্রেমিক দুই বিয়ে করে বিপদে, এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

লিংক কপি হয়েছে!