খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা সীমান্তে যৌথবাহিনীর অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ পাঁচ উপজাতী সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়। গতশনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে গুইমারা রিজিয়নের সেনাবাহিনী ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশ এ অভিযান চালায়। একটানা ১০ ঘণ্টার অভিযানের পরে তাদের আটক করা হয়।
জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী ইউনিয়ন ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের দুইল্যাছড়ি ও বটতলীর গহীনে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। টানা ১০ ঘণ্টার অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদসহ স্থানীয় উপজাতি পাঁচ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়। তবে আটকদের নাম ও ঠিকানা শনিবার রাত নাগাত নিশ্চিত করতে পারেনি যৌথবাহিনী।
থানা সুত্রে বর্তমানে ওই ৫ পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের পরিচয় মিলেছে। তাদের বিরুদ্ধে The arms act, 1878 এর 19-A অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র হেফাজতে রাখাত অপরাধে ওই ধারায় মামলা দায়ের করে ফটিকছড়ি থানা। তারা হলেন-দেবাতলী গ্রামের অং থুই কারবারী বাড়ির মৃত আপ্রুসি মারমা (২৫), খাগড়াছড়ি মানিকছড়ির তিনট্যহরী ইউপির দেবাতলী অং থুই কারবারী বাড়ির কংক্য মারমার ছেলে চহলা মারমা (২১), বান্দরবান সদরের রেইচা ইউপির রওজাপাড়া মনু সিং মারমার ছেলে উমং সিং মারমা (২২), খাগড়াছড়ি মানিকছড়ির তিনট্যহরী ইউপির অং থুই কারবারী বাড়ির দাইজ্জা পাড়ার ক্যউ চিং মারমার উসাজাই মারমা (২১) ও রাঙ্গামাটি বিলাইছড়ি তুনুকছড়ির থুইবাই মারমার ছেলে অংথোয়াইচিং মারমা (২৫)। তারা ৫জনই পাহাড়ি এলাকার বাসীন্দা। উপজাতি স্থানীয় সন্ত্রাসী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গহীন অরণ্যে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র অবস্থানের তথ্যে শনিবার ভোর রাতে গুইমারা রিজিয়নের সিন্দুকছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি জোনের সেনাবাহিনী এবং ফটিকছড়ি থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। সকাল ১১টার পর একটি বসত ঘরে লুকিয়ে থাকা ও চৌকির নিচে স্তুপ করে রাখা বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ স্থানী উপজাতী পাঁচ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়।
সন্ত্রাসীর আস্তানা থেকে উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে একটি একে-৪৭, চারটি মর্টার, একটি পয়েন্ট ২২ মি. মি. রাইফেল, একটি এম-১, পাঁচ জোড়া ইউনিফর্ম, একটি চায়না পিস্তল, একটি এলজি শর্ট ব্যারেল, ৩৬ রাউন্ড এলজি এ্যামো, সাত রাউন্ড একে-৪৭ এ্যামো, ২৪ রাউন্ড এম-১ এ্যামো, ছয়টি মোবাইল ফোন, ১১০ ভারতীয় রুপি, দুটি ওয়াকিটকি, ছয়টি বাউন্ডার, ৩৭টি কাঁচের বোতল ও মাইন তৈরির সরঞ্জামাদি সহ আরো ৪৪ প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র সরঞ্জামাদি তাদের কাছে পাওয়া যায়।
ফটিকছড়ি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলার বটতলী এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে The arms act, 1878 এর 19-A ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা ৫জনই পাহাড়ি উপজাতি স্থানী সন্ত্রাসী বলে জানা গেছে।।
