২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
সংবাদ পাঠান
© 2026 জাগো বুলেটিন
শিরোনাম

পঞ্চগড়ের কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সেখানে চলে শিক্ষার পরিবর্তে ব্যবসা

জাগো ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৩

এক সময়ের এলাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত কালীগঞ্জ সুকাতু প্রধান উচ্চ বিদ্যালয়। এটি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজারে অবস্থিত।
বিদ্যালয়টি ১৯৪৩ সালে স্থাপিত হয়। প্রতিষ্টার পর থেকে সুনামের সাথে শিক্ষা ব্যবস্থা আর পাঠদান ভালো চললেও বর্তমানে চলছে শিক্ষার নামে ব্যবসা।
লেখাপড়ার মান দিন দিন খারাপ হওয়ায় বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা অন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভর্তি হচ্ছেন। বিদ্যালয়ের গুটি কয়েক শিক্ষক ক্লাশে মনোযোগ না দিয়ে তারা ঝুকছেন প্রাইভেট বানিজ্যে। বিদ্যালয়ের পাশেই তৈরি করেছেন কোচিং সেন্টার। সরকার এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার কথা বললেও তারা চালিয়ে যাচ্ছেন কোচিং বাণিজ্যে। যার কারনে তারা ক্লাশে মনোযোগী হতে পারছেন না।

শিক্ষার নামে ব্যবসা না করে পাঠদান ভালো ভাবে চালানোর জন্য এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা জেলা প্রশাসনসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এডহক কমিটি বছরের পর বছর ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। পূর্নাঙ্গ কমিটি না দিয়ে এসব কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

এডহক কমিটিতে রয়েছেন চার জন। তার মধ্যে প্রধান শিক্ষক ধর্ম নারায়ণ রায়, সভাপতি পদে আছেন তার শ্যালক সুভাষ চন্দ্র রায়, সদস্য পদে তার ছোট ভাই তারিনী প্রসাদ রায়, শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে আছেন শাপলা রানী রায়। বছরের পর বছর তাদেরকে নিয়েই করা হচ্ছে এডহক কমিটি। এডহক কমিটিকে তৈরি করেছেন পারিবারিক কমিটি।

২০২১ সালে দাতা সদস্য পদে ১ম দফায় আজগর আলী, মনোরঞ্জন রায়, সুবাস চন্দ্র রায়
২০ হাজার করে টাকা জমা দেন।
২০২২ সালে ২য় দফাও ২০ হাজার করে দাতা সদস্য পদে টাকা জমা দেন ওয়ারেজ আলী, সফিকুল ইসলাম।
২০২৩ সালে ৩য় দফায়ও ২০ হাজার করে ফারুক মিয়া, শহিদুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, রফিকুল ইসলামও টাকা জমা দেন।

নিয়ম অনুযায়ী দাতা সদস্য পদে নেয়া টাকা প্রত্যেকের নামে আলাদা আলাদা ভাবে ব্যাংকে জমা দেয়ার নিয়ম। কিন্তু এক্ষেত্রে নিয়ম না মেনে এককালীন তাদের টাকার সাথে অতিরিক্ত টাকা জমা করা হয়েছে। কিন্তু কিভাবে, কি জন্য, কিসের উদ্দেশ্যে এ টাকা জমা করা হয়েছে তা জানা যায়নি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, দাতা সদস্য পদে প্রধান শিক্ষকের পক্ষে লোক বাড়ানোর জন্য এসব টাকা জমা করা হয়েছে। যাতে প্রধান শিক্ষকের পক্ষের লোক বেশি হয়ে তার পছন্দমত কমিটি করতে পারে।

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠন করা হয় ২০২১ সালের জুনে। নিয়ম অনুযায়ী এডহক কমিটি গঠন করার পর ৬ মাসের মধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিটি করার কথা। কিন্তু তারা সেটা করেনি। পরপর ৩ বার দাতা সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও তারা পূর্নাঙ্গ কমিটি করেননি। তাদের দেয়া টাকা ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে আত্বসাত করেছেন প্রধান শিক্ষক ধর্ম নারায়ণ রায় ও এডহক কমিটির সভাপতি সুবাস চন্দ্র রায়। পূর্নাঙ্গ কমিটি না হওয়া পর্যন্ত দাতা সদস্যদের টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা যাবে না বা খরচ করা যাবেনা কিন্তু সে টাকাও তারা উত্তোলন করে খরচ করেছেন।

বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে রয়েছে বিশাল পুকুর। সেটি এবার টেন্ডার আহ্বান করে ১৮ লাখ। যা সম্পন্ন দেয়া হয়েছে নগদ টাকায়।
বিদ্যালয়ের রয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক দোকানঘর। এসব দোকানের ভাড়া এবং বিদ্যালয়ের মার্কেটে রয়েছে কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। সে ব্যাংকের ভাড়া, বিদ্যালয়ের মাঠের ভাড়া, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় এক হাজারেরও বেশি। তাদের মাসিক বেতনের টাকা। এতগুলো জায়গা হতে বিদ্যালয়ের আয় হলেও ব্যায়ের খাত তেমন নেই বললেই চলে। তাহলে প্রতি মাসে আয়ের লক্ষ লক্ষ টাকা কোথায় যায়, এ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

২য় দরপত্র আহবানকারী মহিয়ার আলম জানান, তিনি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার দরপত্র দাখিল করেও কমিটির হস্তক্ষেপে তিনি পুকুর লিজ নিতে পারেননি।

দাতা সদস্য হিসেবে টাকা জমা দেয়া শহিদুল ইসলাম নামের এক কলেজ শিক্ষক জানান,
কোন এডহক কমিটি সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোন পুকুর বা মাঠ এক বছরের বেশি লিজ দিতে পারেনা কিন্তু প্রধান শিক্ষক প্রায় ৭ মাস ও এডহক কমিটি প্রায় ৫ মাস পরে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে তাই তারা লিয়াজো করে পুকুর ও মাঠ ৩ বছরের জন্য লিজ দেয়। এতে তারা লিজের টাকা পুরোটাই আত্বসাত করার জন্য ় ভুয়া বিল ভাউচার করে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করবে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার দাবি জানাচ্ছি এবং দ্রুত পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করার জন্য আহবান করছি।

দাতা সদস্য পদে টাকা জমা দেয়া দন্ডপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজগর আলী জানান, বিদ্যালয়ের পরিবেশ দিনদিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি। পূর্নাঙ্গ কমিটি একান্ত প্রয়োজন। প্রধান শিক্ষক ইচ্ছাকৃত ভাবে ও নিয়ম বহির্ভূত ভাবে এডহক কমিটি দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের কোন উন্নয়ন না করে তারা ভুয়া বিল ভাউচার করে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্বসাত করছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারি ভাবে বেতন বোনাস পাওয়ার পরেও তারা বিদ্যালয়ের ফান্ড হতে অবৈধ ভাবে বেতন বোনাস আর ইনসেনটিফ নিচ্ছেন। তাদের কোন জবাবদিহিতা নেই বললেই চলে।

এদিকে এডহক কমিটির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় জানান,স্কুল চালাতে কিছু ভুল আছে। তবে আমরা নিয়ম অনুযায়ী স্কুল চালাচ্ছি।

এবিষয়ে কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধর্ম নারায়ন রায় জানান,স্কুলে রেলমন্ত্রীর প্রতিনিধি কমিটিতে রয়েছে। তারা দেখভাল করেন। স্কুলের পুকুরের টাকা,দোকান ঘরের ভারার টাকা স্কুল উন্নয়ন কাজে খরচ হয় এবং কিছু টাকা শিক্ষকদের বোনাস বেতন দেয়া হয়। যারা কমিটিতে আসতে পারে নাই তারাই অনেক কিছু বলে বেড়াচ্ছে। স্কুলে অনেক ভাল শিক্ষার্থী স্কুল থেকে বের হয়ে গেলেও কিছু শিক্ষার্থী স্কুলে ভর্তি হচ্ছে। তবে স্কুল কোন অনিয়ম ভাবে চলচ্ছে না।

ফটো কার্ড প্রিভিউ
বুধবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৩

পঞ্চগড়ের কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সেখানে চলে শিক্ষার পরিবর্তে ব্যবসা

লিংক কপি হয়েছে!