ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানাধীন কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয় অংশগ্রহণে স্কুল পর্যায় ৫০ তম সাব-জোন খেলায় গোল দিয়ে বিজয়ের আনন্দ উল্লাস করলে রুহিয়ার স্থানীয় কিছু বখাটে বিজয়ী দল ভেলারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মো: শিফাত (১৫) ও তার দলের ছেলেদের এলোপাথাড়ি মারপিট করে।
শিক্ষার পাশাপাশি বিনোদন মুলক করে আগামী প্রজন্মকে মাদকাসক্তের অন্ধকার জীবন হতে রক্ষা করতে বিনোদন ও খেলাধুলা আবশ্যক। খেলাধুলার এরই ধারা বাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্তক্রমে উর্ধতন শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে স্কুল পর্যায়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলার আয়োজন।
ত্রি-বার্ষিক স্কল পর্যায়ের খেলায় গত ০৪ সেপ্টেম্বর রোজ সোমবার রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় রুহিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ভেলারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের বনাম ভাষা স্মরণিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়, উক্ত ফুটবল খেলায় ভেলারহাট উচ্চ বিদ্যালয় ০ – ০১ গোলে বিজয় লাভ করে। খেলায় বিজয়ী দল ভেলারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আনন্দ উল্লাস করলে স্থানীয় ছেলেরা তাদের উপর চড়াও হয় এবং তাদের এলোপাথাড়ি মারপিট শুরু করে। খেলা আয়োজক কমিটি মারামারি ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ না করায় ভেলারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মো : শিফাত (১৫) সহ কয়েকজন মারাত্মক ভাবে আহত হয়।
এ বিষয় ভেলারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, ক্রীড়া শিক্ষক আব্দুল্লাহ ও সহকারী শিক্ষক বিনয় এর তত্ত্বাবধানে স্কুল ছাত্রদের খেলতে পাঠানো হয়। খেলায় বিজয়ের পরে বাচ্চারা একটু আনন্দ উল্লাস করছিল এমন সময় কিছু বখাটে ছেলে এসে মারপিট শুরু করে সেই সময় শিক্ষক দুই জন কোন মতে আমাদের স্কুলের ছাত্রদের রক্ষা করতে সক্ষম হয়।
ভাষা স্মরণিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খেলার মাঠে মারামারির কথা শুনেছি তবে আমাদের স্কুলের ছেলেদের সাথে মারপিট হয়নি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি।
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শিফাতের মামা এরশাদুল হকসহ স্থানীয় অনেক অবিভাবক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মারামারির ঘটনা বিষয় এরশাদুল হক ক্ষোভের সাথে বলেন, কিশোর গেং এর ছেলেরা আমার ভাগিনাকে যে ভাবে কিল, ঘুষি লাথি ও এলোপাথারি মারপিট করেছে এতে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো। তারা তাকে প্রান নাসের হুমকিও প্রদান করে।
তিনি বলেন আমি বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানিয়ে ভাগিনার নিরাপত্তা ও সু বিচার প্রাপ্তির নিমিত্তে হামলাকারী (১) মো: জিহাদ হোসেন। (১৮) পিতা: মো: খায়রুল। (২) মো: নিরজন (১৯)। পিতা: মো: আশরাফ আলী। (৩) মো: ফরিদ আলী (১৯)। পিতা: মো: শামসুল হক। (৪) মো: সোহান আলী (১৮)। পিত: মো: আলম হোসেন। (৫) মো: জাহিদ আলী (১৮) পিতা: মো: নূরু হোসেন এদের নাম উল্লেখ করে আরও কিছু অজ্ঞাতনামা হিসেবে রুহিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে একটি এজাহার দায়ের করেছি।
রুহিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: সোহেল রানা বলেন, স্কুল ছাত্রদের খেলাধুলার সময় মারামারির একটি অভিযোগ পেয়েছি, অভিযোগটি এসআই হানিফকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
