নীলফামারীর ডিমলায় জোরপূর্বক বসতবাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ওই জমিতে থাকা বসতবাড়ির ঘর ও টিনের বেড়া ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার ভুক্তভোগী মোঃ মুন্না বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন- মো. আব্দুস সামাদ (৫১), নজরুল ইসলাম , জনি, রনি , নুরন্নবী ইসলাম, নুর হোসেন, হামিদার রহমান ,জামাত হোসেন, হাফেজ আলী, মফেজ উদ্দিন, হাফেজ আলী, খতিবর রহমান, আনোয়ার হোসেন, হায়দার রহমান, হাশেম আলী, লালচান ,শফিকুল হোসেন,সাইদুল ইসলাম, ফিরোজা বেগম, মতিরন বেগম ও হানিফ আলী।
রবিবার(১০ সেপ্টেম্বর) লালচান নামে এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযোগে মুন্না বলেন , আমার বাবা ইব্রাহিম আলী ১৯৮৯ সালে উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া মৌজার এস.এ-৭০৩ , ৩১৪০ নং দাগে
২২ শতাংশ সম্পতি কেনা সূত্রে মালিক হয়ে ৩৪ বছর ধরে ভোগ করে আসছিলেন। পৈতৃক সূত্রে ওই জমিতে আমরা দুই ভাই বসতবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করছি। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন যাবত আমাদের জমি অবৈধ দাবিসহ বেদখল করার পায়তারা চালিয়ে আসছিল।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিবাদীরা দলবদ্ধ হয়ে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের বসতবাড়ি ভাংচুর করে জমিতে বালু ভরাট ও ইট দিয়ে পাকা দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করে।আমরা তাদের কাজে বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের মারধর করে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বাড়িঘর লুট করে এবং আমার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে নির্যাতন করে।
পরে আমরা দৌড়ে পালিয়ে রক্ষা পাই।
মুন্না জানান, এ সময় জরুরি সেবা -৯৯৯ এ অভিযোগ দেওয়ার পর থানা থেকে পুলিশ গিয়ে তাদের কাজ বন্ধ করে দেয়। তারা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় আমরা বাড়িতে উঠি। তবে তারা আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।
একদিকে জমি দখল করা হচ্ছে অপরদিকে আমরা পরিবারের সদস্যরা হুমকির মধ্যে আছি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাতনাই বালাপাড়া গ্রামের মুন্নার পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুস সামাদের দীর্ঘ দিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত শনিবার সামাদের নেতৃত্বে এক থেকে দেড়শ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুন্নার বসতবাড়ি ভাংচুর করে ইট দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করে। এ সময় তারা মুন্না ও তার পরিবারের লোকজনকে মারধর করে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আব্দুস সামাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আব্দুস সামাদের মেয়ে হাসিনা বেগম বলেন, আমার বাবা এ জমির মালিক। জোরপূর্বক জমি দখল করে আছে মুন্না ও তার পরিবারের লোকজন।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাইছুর রহমান বলেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আটক ব্যাক্তিকে নীলফামারী আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
