ঠাকুরগাঁওয়ে চাঁদা চাইতে গিয়ে টাকা না দেওয়ায় মারপিটসহ জোরপূর্বক ৫০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মিজানুর ইসলাম ((৪২) ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
মিজানুর ইসলাম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২১ নং ঢোলারহাট ইউনিয়নের বদ্বেশ্বরীর ভুমির উদ্দিন (ভেকদল) এর ছেলে।
জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বদ্ধেশ্বরী বাজারে সোমবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯ টায় স্থানীয় একই এলাকার রিপন সিংহ, দুলাল হক, চান মিয়া সহ ১৫ জন কৃষক তাদের ফলনকৃত সবজি করলা বিক্রির ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ভাগাভাগি করছিল। ঠিক ওই মুহূর্তে মিজানুর ইসলাম তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা পরে দিবে বলে জানিয়ে দিলে, মিজানুর রহমান সাবেক চেয়ারম্যান সিমান্ত কুমার নির্মল সহ বেশ কয়েক জন কে ফোন করে।
পরে তারা আসলে মিজানুর রহমান ও তার সাথে থাকা লোকজন সন্ত্রাসীর কায়দায় কৃষক চান মিয়ার উপরে অতর্কিত হামলা চালায় এবং কৃষক রশিদুল ইসলাম তা বাধা দিতে গেলে তাকেও বেধরক মারপিট করে ৫০ হাজার টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত ব্যক্তিদের ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে চিকিৎসা জন্য ভর্তি করান।
এই বিষয়ে হামলার শিকার কৃষক চান মিয়ার বলেন, আমরা চায়ের দোকানে বসে ১৪ /১৫ জন কৃষক ক্ষেতের করলা টাকা ভাগাভাগি করতে ছিলাম।
ঠিক সে সময় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর আমার কাছে একটি চাঁদার রশিদ দিয়ে টাকা চাই। আমি তাকে বলছি আমাদের হিসাবের টাকায় গড়মিল রয়েছে, এই হিসাব টা শেষ করে, পরে আপনাকে চাঁদা টা ডেকে দিচ্ছি।
কিন্তু তার পরেও সে চাঁদার রশিদ টা বার বার দেওয়াতে সেটা ভুলক্রমে ছিরে ফেলছি, পরে মিজানুর আমাদের সাবেক চেয়ারম্যান সিমান্ত কুমার নির্মল কে ফোন দেয়। এবং তারা আসলে, আমি চেয়ারম্যান নির্মল ও মিজানুরের কাছে চাঁদার রশিদ ছিড়ে ফেলার জন্য ভুল শিকার করে মাফ চাই। কিন্তু তার পরেও আমাকে মিজানুর সহ তার লোকজন চড় থাপ্পড় মারে।
তখন আমার পাশে থাকা ভাগ্নে রশিদুল বাধা দিতে গেলে আমাকে ছেড়ে তাকেও বেধরক এলো পাথারি মারপিট করে গুরুতর আহত করে।
অন্যদিকে গুরুতর আহত কৃষক রশিদুল ইসলামের ছোট ভাই সুজন ইসলাম জানান, আমরা কর্ল্লার টাকা ভাগাভাগি করার সময় মিজানুর একটি চাঁদার চেক দিয়ে টাকা চাইতে ছিল আর চান মিয়া ক্ষেতের করলা বিক্রি করা টাকা কৃষকের সাথে ভাগাভাগি করতেছিল আর মিজানুর কে চাদা পরে ডেকে দিতে চেয়েছিল কিন্তু তার পরেও সের বার বার চেক দেওয়া তে চান মিয়া সেটা কে ছিড়ে ফেলে তার পরে ২০ /২৫ মিনিট পরে সাবেক চেয়ারম্যান সহ বেশ কিছু লোকজন আসার পরে মিজানুর চান মিয়া ও রশিদুল কে বেধড়ক মারপিট করে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সাথে বাসায় ও মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে ২১ ঢোলার হাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিমান্ত কুমার নির্মল বলেন, সামান্য বিষয় কে কেন্দ্র এই মারপিট। আমার সাথে থাকা এক ছেলে ও মিজানুর সাথে এই মারপিট হয়। আসলে এই মারপিট হওয়ায় আমি দুঃখ প্রকাশ করতেছি।
এই বিষয়ে ২১ নং ঢোলারহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র রায় বলেন, আমি গত রাত আনুমানিক ১১ টা বা ১১ টা ৩০ মিনিটে বদ্বেশ্বরী থেকে একটি ফোন আসে মারপিটের, ও আমি সাথে সাথে সেই ঘটানাস্থলে যায়।
কিন্তু আমি যখন যায় তখন কোন মারপিট ছিলো না। আমি স্থানীয় লোকজন কে জিজ্ঞাসা বাদ করে জানতে পারি যে, ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর নাকি সেই খানকার আওয়ামী লীগের সদস্য চাঁন মিয়াকে একটি সদস্য ফরম দিচ্ছিলো আর সেটা ছেড়াকে কেন্দ্র করে এই মারপিটের ঘটনা ঘটে।
কিন্তু সেই খানে আমাদের সাবেক চেয়ারম্যান সিমান্ত কুমার নির্মল উপস্থিত থাকা সত্যেও এমন ঘটানা আসলেই দুঃখ জনক। আরো জানতে পারি যে চান মিয়া কে মারপিট করার সময় রশিদুল বাধা দেওয়ায় তাকেও বেধরক মারপিট করে এবং স্থানীয়রা তাকে চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করাই।
যেহেতু আমার ইউনিয়নের একজন মানুষ আমি রাতেই তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি যে আহত রশিদুল এর অবস্থা অনেক খারাপ। তবে তিনি বলেন, এখনো পযর্ন্ত এ-ই বিষয়ে কেউ আমাকে লিখিত কোন অভিযোগ দেইনি আর দিলে আমি সেটার একটা সমাধানের চেস্টা করবো।
অন্য দিকে কৃষকরা বলেন,আমরা কৃষক কৃষিকাজ করে আমরা চলি। করলা বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছি সে টাকা আমরা যদি বাড়িতে নিয়ে যেতে না পারি তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়! এ ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
