বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
ই-পেপার Logo
EN
কটিয়াদী সরকা‌রি ক‌লে‌জের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ● চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত রাজু, মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া ● তরুণদের খেলাধুলা সামগ্রী উপহার দিলেন ফুলবাড়ীয়া পৌর ছাত্রদল সা. সম্পাদক রাজু ● জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী ● সংগঠিত ও দক্ষ যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ : রাষ্ট্রপতি ● পঞ্চগড়ে জাসদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ● শামা ওবায়েদের হাতকে শক্তিশালী করতে তালমায় ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা ● আট মাসে মানুষের কাছে বিএনপি অজনপ্রিয় হয়েছে: পঞ্চগড়ে সারজিস আলম ●
Logo
জনপদ

সরকারি আদেশ অমান্য করে অধিগ্রহণাধীন জমির খারিজ, চরঈশ্বদীয়া ভূমি অফিসে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
কপি হয়েছে!

বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণের তালিকাভুক্ত জমির ক্রয়–বিক্রয় ও খারিজ (নামজারি) সরকারি আদেশে বন্ধ থাকার কথা থাকলেও সেই আদেশ উপেক্ষা করে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে খারিজ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চরঈশ্বদীয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস-এর নায়েব আবুল কালাম আজাদ-এর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অধিগ্রহণাধীন জমির খারিজ করাতে গেলে সরাসরি কিংবা দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাসের পর মাস ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করা হচ্ছে।
চরঈশ্বদীয়া গ্রামের শিমুলতলা এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশম বলেন,
“চরঈশ্বদীয়া মৌজায় পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া আমার সাড়ে ৯ শতাংশ জমি খারিজ করতে এক লাখ টাকা দিতে হয়েছে।”
আরেক ভুক্তভোগী চরগোবদীয়া গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন,
“তিন মাস ধরে অফিসে ঘুরেছি, কোনো কাজ হয়নি। পরে অফিসের এক লোকের সঙ্গে ২০ হাজার টাকা কন্ট্রাক করে খারিজ করাতে বাধ্য হয়েছি।”
তিনি অভিযুক্ত নায়েবের বিচার দাবি করেন।
অফিস কক্ষে মব তৈরির চেষ্টা
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে গত মঙ্গলবার সকালে চরঈশ্বদীয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস কক্ষের ভেতরেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, নায়েব আবুল কালাম আজাদ অভিযোগের জবাব না দিয়ে অফিসে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীকে ডেকে এনে সাংবাদিককে ভয় দেখাতে মব তৈরির চেষ্টা করেন। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
মোবাইল ফোন বন্ধ, রহস্য আরও ঘনীভূত
ঘটনার পর নায়েব আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এতে করে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জনমনে আরও প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি শুধু দুর্নীতির অভিযোগ নয়—এটি সরকারি আদেশ অমান্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর উদাহরণ। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট খারিজ নথি জব্দ ও যাচাই এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।