● চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত রাজু, মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া ● তরুণদের খেলাধুলা সামগ্রী উপহার দিলেন ফুলবাড়ীয়া পৌর ছাত্রদল সা. সম্পাদক রাজু ● জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী ● সংগঠিত ও দক্ষ যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ : রাষ্ট্রপতি ● পঞ্চগড়ে জাসদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ● শামা ওবায়েদের হাতকে শক্তিশালী করতে তালমায় ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা ● আট মাসে মানুষের কাছে বিএনপি অজনপ্রিয় হয়েছে: পঞ্চগড়ে সারজিস আলম ● পঞ্চগড়ে ভুয়া মামলা ও এআই প্রযুক্তিতে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ● ●
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
ই-পেপার Logo
EN
চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত রাজু, মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া ● তরুণদের খেলাধুলা সামগ্রী উপহার দিলেন ফুলবাড়ীয়া পৌর ছাত্রদল সা. সম্পাদক রাজু ● জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী ● সংগঠিত ও দক্ষ যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ : রাষ্ট্রপতি ● পঞ্চগড়ে জাসদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ● শামা ওবায়েদের হাতকে শক্তিশালী করতে তালমায় ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা ● আট মাসে মানুষের কাছে বিএনপি অজনপ্রিয় হয়েছে: পঞ্চগড়ে সারজিস আলম ● পঞ্চগড়ে ভুয়া মামলা ও এআই প্রযুক্তিতে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ●
Logo
জনপদ

নবারুন সমাজ কল্যাণ সমিতি বিলীনের পথে, সংস্কার ও পুনর্জাগরণের দাবি

জাগো ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
কপি হয়েছে!

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন নবারুন সমাজ কল্যাণ সমিতি আজ অস্তিত্ব সংকটে। একসময় এলাকার সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী এই সংগঠনটির কার্যক্রম বর্তমানে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয়দের মাঝে সমিতিটির পুনর্জাগরণের দাবি জোরালো হচ্ছে।

জানা যায়, ১৯৬৯ সালে জুঙ্গুরদী গ্রামের একদল উদ্যমী তরুণ সমাজ সংস্কার ও জনকল্যাণমূলক কাজের উদ্দেশ্যে জুঙ্গুরদী পূর্বপাড়া মসজিদের পাশে নবারুন সমাজ কল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন নাজিম উদ্দিন মুন্সী (নিজাম), সানোয়ার হোসেন খান, সানু মোল্লা, আবু বকর মিয়া, শাজাহান, বজলুল মোল্লা, তৈয়ব, সৈয়দ আলী মুন্সী ও আওলাদ হোসেন মোল্লা প্রমুখ। তাদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতায় ছিলেন শিক্ষাবিদ আজিজুল হক মাস্টার।

১৯৭৩ সালের প্রথম দিকে সংগঠনটি সরকারি নিবন্ধন লাভ করে। এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল ফ-১৩। প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সানোয়ার হোসেন খান। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে নাজিমউদ্দিন মুন্সী (নিজাম) সভাপতি নির্বাচিত হন।
প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সমিতিটি এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

সদস্য সংখ্যা প্রায় ২০০ জনে পৌঁছে যায়। আজীবন সদস্য ফি নির্ধারণ করা হয় ২০০ টাকা এবং সাধারণ সদস্যদের মাসিক চাঁদা ছিল ৫ টাকা। যশোদা জীবন ভৌমিক, আমিন উদ্দিন মাস্টার (এমএলএল) ও ওসমান গণি মোল্লা (কালা মোল্লা) ছিলেন উল্লেখযোগ্য আজীবন সদস্য।

১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় সমিতি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভূমিকা পালন করে। সে সময় সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত দুই বস্তা লবণ এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে সমানভাবে বিতরণ করা হয়। এছাড়া সরকারি খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগেও সংগঠনটি সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

১৯৭৭ সালে সমিতিটি বর্তমান আভা অফিস সংলগ্ন স্থানে স্থানান্তর করা হয়। সদস্যরা নিজ উদ্যোগে মাটি কেটে ভরাট করে ক্লাবঘর নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে নবারুন সমাজ কল্যাণ সমিতির নামে নগরকান্দা বাজারে একটি স্টেশনারি দোকানও পরিচালিত হয়, যা দীর্ঘদিন সফলভাবে চলেছে।

একসময় সামাজিক সহায়তা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগঠনটি এলাকায় বিশেষ সুনাম অর্জন করে। বর্তমানে সভাপতি সাইফুল আলম শান্ত এবং সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন নান্টু সংগঠনটির দায়িত্বে থাকলেও কার্যক্রম আগের তুলনায় অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটির ভবন বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং সংস্কারের অভাবে বিলীনের পথে। দ্রুত সংস্কার ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে নবারুন সমাজ কল্যাণ সমিতিকে পুনরায় সক্রিয় করা গেলে এলাকার সামাজিক উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজসেবীরা এগিয়ে এসে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা ও পুনর্জীবিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।