বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
ই-পেপার Logo
EN
প্রিন্সেস ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড পেলেন সামমাম সাকতি ● কটিয়াদী সরকা‌রি ক‌লে‌জের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ● চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত রাজু, মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া ● তরুণদের খেলাধুলা সামগ্রী উপহার দিলেন ফুলবাড়ীয়া পৌর ছাত্রদল সা. সম্পাদক রাজু ● জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ : প্রধানমন্ত্রী ● সংগঠিত ও দক্ষ যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ : রাষ্ট্রপতি ● পঞ্চগড়ে জাসদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ● শামা ওবায়েদের হাতকে শক্তিশালী করতে তালমায় ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা ●
Logo
জনপদ

কিশোরগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে সেবার মান বৃদ্ধি,কমেছে হয়রানি

জাগো ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২২, ০৪:৪৫ পিএম
কপি হয়েছে!

ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন অপেক্ষা করে নির্দিষ্ট সময়ে পাওয়া যেত না পাসপোর্ট। সরকার নির্ধারিত ফি দিয়েও সঠিক সময়ে পাসপোর্ট না পেয়ে গ্রাহকদের অসুবিধার অন্ত ছিল না।তবে কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী-পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের প্রচেষ্ঠায় পাল্টে গেছে চিত্র। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম রোধে কঠোর তিনি।এতে করে বেড়েছে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ। পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতি কমায় স্বস্তি ফিরেছে জনমনে।

কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৫ অক্টোবর থেকে কিশোরগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়।পাসপোর্ট অফিসে এসে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মূলত ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হয়। বাসায় বসেই একজন মানুষ ই-পাসপোর্ট করতে পারে।

ই-পাসপোর্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এর মাধ্যমে ই-গেট ব্যবহার করে খুব দ্রুত ও সহজে ভ্রমণকারীরা যাতায়াত করতে পারবেন। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এর মাধ্যমেই ইমিগ্রেশন দ্রুত হয়ে যাবে।
তার থেকেও বড় সুবিধা বড় ধরনের ততথ্যগত ত্রুটি না থাকলে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে ই-পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায় এবংকি রিইস্যুর ক্ষেত্রে তথ্যগত অমিল না থাকলে সুপার এক্সপ্রেসের মাধ্যমে ২-৩ দিনেও পাসপোর্ট পাওয়া যায়।

ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও। সব ঠিক থাকলে তিনি ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন। কোনো গরমিল থাকলে জ্বলে উঠবে লালবাতি। কারও বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে, সেটিও জানা যাবে সঙ্গে সঙ্গে।
কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার জন ই-পাসপোর্টের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫৫ হাজার জনের পাসপোর্ট প্রিন্ট হয়ে এসেছে।রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করতে ডাটা বেইজ রয়েছে এবং প্রতিটি পাসপোর্ট আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। যার ফলে অবৈধ, ভূয়া নাম ঠিকানা ব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করতে সহজ হয়ে যায়।

পাসপোর্ট করতে আসা একাধিক আবেদনকারী জানান, অনলাইনে ফরম পূরণ করে সঠিক সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন। তাদের মতে, পাসপোর্ট করতে অনেক সময় ও সরকার নির্ধারিত ফি এর চেয়ে অধিক অর্থ গুনতে হয়। সরকার নির্ধারিত ফি দিয়ে আবেদন করে অল্প সময়ে তারা পাসপোর্ট পেয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই অবাক হয়ে জানান, এই অফিসের কর্মকর্তাদের আচরণ এবং সেবার মান অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। কাজেও স্বচ্ছতা ফিরেছে।

তারা আরও জানান, বর্তমান সহকারী-পরিচালকের আমলে অনেক সুবিধা হয়েছে। পাসপোর্ট সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যা বা কোনো কিছু জানতে চাইলে অফিসের সহকারী-পরিচালকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যায়। সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক সহকারী-পরিচালক নিজে উঠে টেবিলে টেবিলে ঘুরে সমাধান করে দিচ্ছেন।

সিঙ্গাপুরে কাজ পাওয়া ছেলে সাদ্দাম জানান, ১৫ দিন আগে পাসপোর্ট আবেদন করেছেন। অনলাইনে ফরম পূরণ করে সঠিক সময়ের মধ্যেই পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন তিনি।

পাসপোর্ট করতে নির্ধারিত ফি এর বেশি টাকা ও লোক ধরতে হয়- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সেদিন এখন আর নেই। সমস্যা হলে সোজা বড় কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যায়। আর কি চান। আর কোনো দালাল লাগে না।

এক বেসরকারি কর্মকর্তা বলেন, নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে আবেদন করে পাসপোর্ট অফিসে যাই। সেখানে গেলে অফিস প্রধান পরিচয় জানতে পেরে নিজে এসে আমাকে সঙ্গে নিয়ে আবেদন জমাদানের বিভিন্ন কক্ষে যান এবং মুহূর্তে কাজ শেষ করেন। এতে আমি আন্তরিকভাবে খুশি।

বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার তাগিদে আসা সাইফুল বলেন, লিভারের রোগে ভারতে উন্নত চিকিৎসায় যাওয়ার জন্য নির্ধারিত ফি দিয়ে আমি অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করি। এর আগেই জানতে পারি বর্তমান অফিস প্রধান জনগণের জন্য আন্তরিক। আমি তার কাছে গেলে মাত্র অল্প সময়ে তিনি নির্দিষ্ট লোক দিয়ে আমার কাজ সমাধান করে দেন। পরবর্তীতে আমি সঠিক সময়ে আমি পাসপোর্ট হাতে পেয়েছি।

কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী-পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন জনগণকে নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিতে। সেই লক্ষেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। করোনা মহামারিতেও আমরা থেমে নেই। মানুষের দুর্ভোগে দ্রুততার সঙ্গে কাজ যাচ্ছি। আবেদনকারীদের যে কোনো সমস্যা হলে তারা সরাসরি আমার সঙ্গে দেখা করলে আমি যথাসম্ভব দ্রুত সমাধান করে দেব। আমার রুম নাম্বার ২০১ আপনাদের সেবায় আমার দরজা সবসময় খোলা।’