২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
সংবাদ পাঠান
© 2026 জাগো বুলেটিন
শিরোনাম

জাবি শিক্ষার্থীদের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ

জাগো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ০৮ এপ্রিল ২০২২

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী অন্তু রায়ের আত্মহত্যার ঘটনায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর এলাকা থেকে বামপন্থী সংগঠনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়।
মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক হয়ে বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

এ সময় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘন্টা অবরোধের পর শিক্ষার্থীরা নিজ থেকেই অবরোধ তুলে নেন।

গত ৪ এপ্রিল খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কুয়েট শিক্ষার্থী অন্তু রায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয় নিজ ঘর থেকে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, বকেয়া ফি-র টাকা দিতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে অন্তু রায়। এই দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে বলে জানান তারা।

অবরোধ চলাকালে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, একদিকে রাষ্ট্র উন্নয়নের ডামাডোল পিটাচ্ছে অন্যদিকে উন্নয়নের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে নানা শ্রেণির মানুষ। একদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে রিকশাচালক জরিমানা দিতে না পেরে আত্মহত্যা করছে আরেকদিকে অতিরিক্ত ফি-র জাঁতাকলে আত্মহত্যা করছে শিক্ষার্থীরা। এই যে প্রতিনিয়ত আত্মহত্যার মিছিল এটি রাষ্ট্রের ভঙ্গুরতার বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার, এটি রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সামি আল জাহিদ প্রীতম বলেন, এই রাষ্ট্র ব্যবস্থা অন্তু রায়ের মতো আরও অনেক শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষাব্যবস্থায় বিভিন্নভাবে ফি-বৃদ্ধি প্রমাণ করছে শিক্ষাব্যবস্থা শুধুমাত্র উচ্চ শ্রেণির লোকদের জন্য। এটি স্বাভাবিক শিক্ষাব্যস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধি শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। কুয়েটে অন্তু রায় আত্মহত্যা করেছে, আবার দেখা যাবে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও আরেকজন আত্মহত্যা করেছে। এধরনের পরিস্থিতি যেন আর তৈরি না হয় এজন্য রাষ্ট্রকে আশু ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি রাকিবুল রনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফি এমন করে বাড়ানো হচ্ছে যেখানে মেধাবী শিক্ষার্থীরা চান্স পেলেও পড়তে পারবে না। এরকম ফি দিতে না পেরে শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে রাগে-ক্ষোভে আত্মহত্যা করছে। ১৩ বছরের দুঃশাসনের এই পরিণতি আজকের বাংলাদেশের। প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নামে-বেনামে ফি বাড়ানো হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এসব অতিরিক্ত ফি বাড়ানো বন্ধ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান এবিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, যারা মহসড়ক অবরোধ করেছিলো আমি তাদেরকে অনুরোধ করেছিলাম মহসড়ক ছেড়ে দিতে। রমজান মাসে মানুষজনের কষ্ট যেনো না হয়। শিক্ষার্থীরাও আমার কথা রেখেছে, তারাও তাদের কার্যক্রম শেষ করে নিজ থেকেই অবরোধ উঠিয়ে নেয়।

ফটো কার্ড প্রিভিউ
শুক্রবার, ০৮ এপ্রিল ২০২২

জাবি শিক্ষার্থীদের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ

লিংক কপি হয়েছে!